পৃষ্ঠাসমূহ

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

প্রেম-২

যে তোমারে নিশি-দিন ভালবাসে গোপনে,
তুমি তারে ভুলেও কভু দেখনাতো স্বপনে।
তুমি যারে বাস ভাল মনো-প্রানো দিয়ে,
সে বুঝি গো ব্যস্ত এখন আরো কারে নিয়ে।
তোমার চোখের অশ্রু-ফোঁটা পায় না যে জন দেখিতে,
নিবোর্ধ সে, অন্ধ সে জন আঁখি দুটি থাকিতে।
তোমার তরে ফেলছে যে বা অশ্রু দিবা-নিশি,
তুমি কি গো দেবে মুছে একটি বার ও আসি?
যাহার তরে মরছো তুমি কষ্ট করছো ক্রয়,
কোন সে ভ্রমে রয়েছো পড়ে যে জন তোমার নয়?
যার অন্তরে রক্ত-ক্ষরণ তোমার প্রেমের লাগি,
তুমি তারে দেখলেনাতো একটি বারও জাগি
তোমায় ভালবেসে যে জন নিরবে যায় হারিয়ে,
ভুল করোনা রুখতে তারে বাহু দুখান বাড়িয়ে।

শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৩

নষ্ট মানুষ

তোমাদের শত হাসি-খেলাতে
ছিলেম সারথী হয়ে।
ভুল বুঝে যদি দূরে দূরে রও,
অভিমানে যদি না কথা কও
মরণ যেন হয় গো আমার,
জীবন যায় যে ক্ষয়ে।
আর যেন গো না আসি ধরায়
কখনো মানুষ হয়ে।

শনিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৩

আমাদের ঢাকা

দেখে-শুনে পথ চলি রাজধানী ঢাকাতে,
তবু কেন গাড়ীগুলো চলেনা যে ফাঁকাতে।
কোথা থেকে ছুটে এসে যেন মারে ধাক্কা,
একটু হলেই কেউ পেয়ে যাবে অক্কা।
পার হতে রাস্তায় দেখে নিও বাতিটা,
বাইকগুলো কেন এত করে কেরামতিটা।
জেব্রার ডোরা আঁকা ছিল আগে রাস্তায়,
ফুটব্রীজ ছাড়া লোকে পার হতো সস্তায়।
ফুটপাথে হকারেরা যেন বসে মেলাতে,
হাটা বড় দুষ্কর বাইকের ঠেলাতে।
কোথা থেকে উড়ে এসে খসে পড়ে ইট-কাঠ,
বেখেয়াল হলে পরে মারা যাবে নির্ঘাৎ।
গাদাগাদি করে বাসে প্রতিদিন যাত্রা,
সেই সাথে বাড়তেছে গরমের মাত্রা।
রাস্তাটা জুড়ে থাকে রিক্সা-ঠেলা-ভ্যান,
জ্যাম নিয়ে প্রণান্ত ট্রাফিক পুলিশ-ম্যান।
রিক্সায় চড় যদি ভাড়া নিও মিটিয়ে,
তানাহলে মেজাজটা দেবে শেষে চটিয়ে।
কেউ কেন মানে না যে ট্রাফিকের আইনটা,
যেখানে সেখানে ঝুলে বিলবোর্ড সাইনটা।
অনিয়ম এ শহরে যেন এক ক্যান্সার,
মুক্তির উপায়টা দেয়না কেউ এ্যানসার।
প্রাণের শহর তবু আমাদের ঢাকা ভাই,
মন খুলে কবিতায় সে কথাই বলে যাই।

মঙ্গলবার, ৫ মার্চ, ২০১৩

জেগেছে প্রজন্ম

সবার নিদ্রা ভাঙবে যখন
          জেগে উঠবে বাংলাদেশ।
ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাবো ওদের
          আদালতের নিয়ে আদেশ।
জাগ্রত আজ বীর জনতা,
শাহবাগে রোজ বলছে কথা,
পৌছে দিল এই বারতা
          হয়নি তো সব শেষ।
আর কেঁদো না বাঙলা মা গো
          ঘুচবো তোমার ক্লেশ।


কালিমা যা লেপ্টে ছিল
          সর্ব অঙ্গে তোমার,
বেয়াল্লিশটি বছর পরে
          নেই তো সুযোগ ক্ষমার।
অপরাধীরা শাস্তি পাবে,
দোসররা সব ভয়ে পালাবে,
প্রজন্ম আজ আলো জ্বালাবে
          নতুন পথে চলার।
পূর্বাকাশে উঠবে সূর্য
          ভাঙবে অন্ধকার।


তোমায় নিয়ে খেলছে যারা
          ছিনিমিনি খেলা,
সাবধান করে দিচ্ছি তাদের
          অনেক হয়েছে বেলা।
তোদের ষড়যন্ত্রগুলো,
ভেস্তে যাবে হবে ধূলো,
দূর হ নিয়ে গুষ্টি গুলো,
          দিয়েছি তোদের ম্যালা।
তোদের যেন না দেখি আর
          দেশ বিরোধী চ্যালা


নতুন বছর নতুন স্বপ্ন
          নতুন দিনের শুরু।
কোন্‌ সে ভয়ে কাঁপছে তোমার
          বুকটা দুরু দুরু?
মাগো তোমার ভয় কিসে আর?
জেগেছে দেখো জনতা তোমার,
প্রজন্ম আজ বলছে সবার
          মনের কথা পুরো।
তোমার মুখের হাসি দেখে
          নাচছে পক্ষী তরু।

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৩

কবিতা লেখা

মুখে আসে যা-তা ছাইপাশ লিখছি।
কবিতা কি করে লেখে তাই রোজ শিখছি।।
অক্ষর মিলে যদি মিলে না তো মাত্রা।
ঢাকা থেকে শুরু হলে চিনে করে যাত্রা।।
বেমালুম বেশুমার শব্দের ভজঘট।
লেখা চাই কবিতা মনে হলে ঝট্‌পট্‌।।
ছড়া যদি লিখি আমি পড়েনা তো বাবুরা।
কবিতার পাঠক হয় নরেন আর আবুরা।।
কেউ বলে বেশ্‌ বেশ্‌ লেখা যাও চালিয়ে।
লিখতে পারিনা রাতে আলোটাকে জ্বালিয়ে।।
মশা করে প্যান-প্যান মশা করে ত্যাক্ত।
ছুড়ে ফেলে খাতা বলি- লিখবনা ধ্যাৎ ত।।
কবি হয়ে লাভ নেই লাভ নেই কাব্যে।
কবিতা পড়েনা যারা তারা কি ভাব্‌বে??

বুধবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৩

বাস্তুহারা

করতে যদি পারতাম কিছু আজকে ওদের জন্য,
মানুষ হয়ে জন্ম আমার হতো বা বুঝি ধন্য।
প্রচন্ড এই শীতের মাঝে
পথের ধারে সকাল-সাঁঝে।
ব্যস্ত সবাই নিজের কাজে,
ওদের তরে কেউ দেখেনা।
মোদেরই মত মানব সন্তান নয় তো ওরা বন্য।

আছে যাদের কাড়ি কাড়ি অর্থ-কড়ি টাকা,
করুণা হয় তাদের জন্য, হৃদয় তাদের ফাঁকা।
পীজাহাট আর কেএফসিতে
যাচ্ছে তারা দিনে ও রাতে।
একটি টাকা কী খয়রাতে
যাচ্ছে তাদের বলো?
বিত্তহীনের রক্তে তাদের সুখের স্বর্গ আঁকা।

সবাই যদি দিত তাদের একটি টাকা করে,
ঘরহারা এই মানুষগুলো থাকতো নিজের ঘরে।
অন্ন থাকতো, বস্ত্র থাকতো
তারাও মনে স্বপ্ন আঁকতো।
খুশি তাদের ঘিরে রাখতো,
থাকতোনা হাত পেতে।
হতো না আর ভিক্ষা করতে ব্যস্ত পথের পরে।

মঙ্গলবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৩

সখা হে!

অন্দর থেকে         স্মিত হাসিমুখে
     দাঁড়াতে সামনে এসে।
চিত্ত যে মোর        নিত্য সে ঘোর
     থাকতো মোহাবেশে।।

উত্তর ঘরে          খোলা দুডোরে
     বসেছি আমরা দুজন।
করেছি কত         গল্প শত
     শুনেছি পাখির কূজন।।

নিদারুন জ্বালা       নিষ্ঠুর খেলা
     কাঁদাতো তোমায় যবে।
হাত বুলিয়ে         মন দুলিয়ে
     করেছি শান্ত তবে।।

তোমারি মত        আমারো কত
     না বলা কথার ডালি।
করে বিনিময়        কেটেছে যে ভয়
     হৃদয় হয়েছে খালি।।

তোমার সুজন        বন্ধু যখন
     থাকতো সুদূর দেশে।
পত্র শত           করেছি কত
     পারাপার আমি হেসে।।

হাসি-গানে ভরা      কাটিয়েছি মোরা
     কতনা সুখের দিন।
মনে পড়ে আজি      সুর উঠে বাজি
     হৃদয় তারের বীণ।।

ফেলে আসা সেই      দিন গুলোতেই
     ফিরে যেতে মন চায়।
আসবে না আর       ফিরে সে আবার
     সোনা দিনগুলি হায়!!

দূরে চলে গেছ       অচীন হয়েছ
     দেখতে যে মন চাহে।
দেবে কি দেখা       চাইছি চখা
     মোর প্রাণের সখা হে!!