মধ্যরাত্রি।
চারিদিক নিস্তব্ধ, নিঝুম।
রাস্তার মোড়ে একটি কুকুর
ডাকছিল থেকে থেকে অনবরত।
ঘরে শঙ্কিত সকলেই, নেই ঘুম
কারো চোখে।
এক অফুরন্ত প্রশ্নসূচক জিজ্ঞাসু
দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন বাবা,
পায়চারি করতে থাকেন আর।
-হঠাৎ দরজায়,
কড়া নেগে উঠে, বেশ জোরে।
শঙ্কিত দৃষ্টি আরও
দৃঢ় হতে থাকে সকলের। ওদিকে
দরজায় কড়া নড়ছে, জোরে আরও জোরে।
কেউ কিছু বলার আগেই পা টিপে টিপে
এগিয়ে গেলেন বাবা। খুলে দিলেন
এক মহারূদ্ধ অশুভ দ্বার; আর
সঙ্গে সঙ্গেই রাইফেল হাতে
প্রবেশ করল তিন জন,
না না, চারজন লোক।
বাবাকে ওরা নিয়ে গিয়েছিল ধরে।
বলেছিল, "যাব তো ফিরিয়ে
দিয়ে আবার"।
বাবা আর ফিরে আসেনি ঘরে, আমাদের মাঝে।
সেদিন আমি শুনেছিলাম
নগ্ন পদধ্বনি।
ওদের আমি পারিনি চিনতে ঠিক,
তবে ওই পদধ্বনি আমি শুনেছি বহুবার।
অবশেষে,
রুধির পরোধি তীরে দাঁড়িয়ে
দেখেছিল নতুন সূযোর্দয়, স্বাধীনতার,
সাত কোটি বাঙ্গালী।
আজ দুই যুগ হয়েছে অতীত,
তথাপি আমি শুনতে পাই
সেই পরিচিত
নগ্ন পদধ্বনি।
রাস্তার মোড়ে কুকুর ডেকে উঠে
সেদিনের মত আবার। অদূরে
গোরস্তানে মৃতক ব্যবচ্ছেদ করছে শেয়াল।
এ কোন অশুভ সংকেত?
আবার কেন ঘরের পাশে
শুনি পদধ্বনি? হ্যাঁ রাশি রাশি;
তাদের পায়ে বুট নেই, কেবল
সেই পরিচিত
নগ্ন পদধ্বনি।
রক্ত-স্রোতে বইছে শিহরণ
শিরায় উপশিরায়।
হস্ত-পেশী প্রকম্পিত।
আমি কি ভয় পাচ্ছি?
না না, অসম্ভব;
বিদগ্ধ হৃদয় নিয়ে আমি বেঁচে আছি
আজও - এই সবুজ চত্বরে
বাবার হাসিমাখা মুখচ্ছবি দেখব বলে।
শহীদের হাসি দেখব বলে
আজও প্রতীক্ষার প্রহর গুনছি।
কিন্তু আজ কেন এ লগনে
শুনছি নগ্ন পদধ্বনি?
হে বাংলার প্রহসনের স্বাধীনতা!
আর কতকাল থাকবে ওরা?
আর কতকাল শুনতে হবে
শহীদের বুকে
নগ্ন পদধ্বনি?
সোমবার, ২৬ মার্চ, ২০১২
বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২
সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১২
জোনাক
রাতের বেলা যখন আমি
বসি মাঠের কাছে,
জোনাক পোকা দেখে তখন
প্রাণটা আমার নাচে।
আঁধার কেটে আলো জ্বেলে
ঘুরছ এদিক সেদিক,
তোমায় দেখে মুগ্ধ হয়ে
পথ হেটে যায় পথিক।
তোমার মত যদি আমার
থাকত এত আলো,
সত্যি বলছি নয়তো মিছে
লাগত কত ভালো।
উঠান জুড়ে ঘুরে বেড়াই
তোমায় ধরব বলে,
কখনোতো দাওনা বকে
তুমি ব্যথা পেলে।
তুমি আমার বন্ধু হবে
হবে আমার সাথী?
দু’জন বসে গল্প করে
কাটিয়ে দেব রাতি।
চলতে পথে যদি কখনো
পথ হেটে যাই একা,
ভয় যে আমার উবে যাবে
পেলে তোমার দেখা।
আঁধার রাতে তোমার সাথে
বলতে যে চাই কথা,
বল তুমি যাবেনা চলে
দিয়ে আমায় ব্যথা?
তোমার আলোয় আঁধার সরে
নেচে উঠে প্রাণ,
তোমায় পেয়ে ধণ্য জীবন
হোক না অবসান।
ছোট্ট তবু আঁধার মাঝে
ছড়িয়ে দাও আলো,
তোমায় দেখে সরে যেন
মোদের মনের কালো।
বসি মাঠের কাছে,
জোনাক পোকা দেখে তখন
প্রাণটা আমার নাচে।
আঁধার কেটে আলো জ্বেলে
ঘুরছ এদিক সেদিক,
তোমায় দেখে মুগ্ধ হয়ে
পথ হেটে যায় পথিক।
তোমার মত যদি আমার
থাকত এত আলো,
সত্যি বলছি নয়তো মিছে
লাগত কত ভালো।
উঠান জুড়ে ঘুরে বেড়াই
তোমায় ধরব বলে,
কখনোতো দাওনা বকে
তুমি ব্যথা পেলে।
তুমি আমার বন্ধু হবে
হবে আমার সাথী?
দু’জন বসে গল্প করে
কাটিয়ে দেব রাতি।
চলতে পথে যদি কখনো
পথ হেটে যাই একা,
ভয় যে আমার উবে যাবে
পেলে তোমার দেখা।
আঁধার রাতে তোমার সাথে
বলতে যে চাই কথা,
বল তুমি যাবেনা চলে
দিয়ে আমায় ব্যথা?
তোমার আলোয় আঁধার সরে
নেচে উঠে প্রাণ,
তোমায় পেয়ে ধণ্য জীবন
হোক না অবসান।
ছোট্ট তবু আঁধার মাঝে
ছড়িয়ে দাও আলো,
তোমায় দেখে সরে যেন
মোদের মনের কালো।
মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১১
অন্য ভূবন
পৃথিবীর সমস্ত কাজ সাঙ্গ করে
আমরা বসেছি মুক্তার মালা গাঁথতে।
যে মালার সাথে এক হয়ে
বিনি সুতায় বাঁধা পড়ে দু'টি প্রাণ।
পূর্ণিমার চাঁদের সবটুকু আলো এসে
লুটোপুটি খাচ্ছে তোমার গায়ে।
আমি পাশে বসে তাই দেখি আর হাসি।
এ যেন এক অন্য ভূবন, অন্য জগৎ;
যেখানে কোন বাধা নেই,
যেখানে চাইলেই আমরা হেঁটে
যেতে পারি চিনের প্রাচির ধরে,
কিংবা মুহুর্তেই ঘুরে আসতে পারি
ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত
কিংবা কেনিয়ার গহীন বন।
এমন রাতে আমরা এক হয়ে
মিশে যাই আর মুক্তার দানার মত
মালা হয়ে রই কোন এক
অনাগত ভোরের আশায়।
আমরা বসেছি মুক্তার মালা গাঁথতে।
যে মালার সাথে এক হয়ে
বিনি সুতায় বাঁধা পড়ে দু'টি প্রাণ।
পূর্ণিমার চাঁদের সবটুকু আলো এসে
লুটোপুটি খাচ্ছে তোমার গায়ে।
আমি পাশে বসে তাই দেখি আর হাসি।
এ যেন এক অন্য ভূবন, অন্য জগৎ;
যেখানে কোন বাধা নেই,
যেখানে চাইলেই আমরা হেঁটে
যেতে পারি চিনের প্রাচির ধরে,
কিংবা মুহুর্তেই ঘুরে আসতে পারি
ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত
কিংবা কেনিয়ার গহীন বন।
এমন রাতে আমরা এক হয়ে
মিশে যাই আর মুক্তার দানার মত
মালা হয়ে রই কোন এক
অনাগত ভোরের আশায়।
বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০১১
পোকার রাজ্যে স্বাগতম
আমার চলার পথ
যা ধরে আমি ছুটে চলেছি
কিংবা ছুটে যাব
তা বড্ড বন্ধুর আর কণ্টকিত।
তাই খুব নিঃশব্দে আমার পথচলা,
পোকাদের মতো।
একটা পোকা যেমন খুব নিঃশব্দে উড়ে এস বসে
একটা ঘাসফুলে, ঠিক তেমনি আমি হেটে চলি
নিরবে।
আমি ভয় পাইনা অন্য কারো গ্রাস হওয়ার,
আমি ভয় পাইনা ডানা ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে মৃত্যুর প্রহর গোনার।
কিন্তু আমার ভয় হয়,
যদি আমার পায়ের আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে
ভীত সণ্ত্রস্ত হয়ে জেগে উঠে কোন হুতুম-পেঁচা,
কিংবা ঘুম ভেঙ্গে যায় কোন সদ্যজাত প্রজাপতির,
কিংবা আমার আওয়াজ শুনে হঠাৎ করে উড়তে
গিয়ে কোন পোকা ধরা পরে মাকরশার মরনফাঁদে।
আমার ভয় হয়, তখন আমার ভয় হয়।
কারন তখন আমি বুঝতে পারি
আমার ডানা থাকলেও ডানা ভাঙ্গার জমাটবাধা কষ্ট এসে
ভর করে আমার কাঁধে।
মৃত্যুযণ্ত্রনার প্রতিটি মুহুর্তের শত কষ্ট বুকে চেপে
এমনি করেই আমার বিচরন, পোকাদের রাজ্যে।
বি.দ্রঃ এই কবিতার কিছু অংশ মল্লিকার সংযোজন করা
যা ধরে আমি ছুটে চলেছি
কিংবা ছুটে যাব
তা বড্ড বন্ধুর আর কণ্টকিত।
তাই খুব নিঃশব্দে আমার পথচলা,
পোকাদের মতো।
একটা পোকা যেমন খুব নিঃশব্দে উড়ে এস বসে
একটা ঘাসফুলে, ঠিক তেমনি আমি হেটে চলি
নিরবে।
আমি ভয় পাইনা অন্য কারো গ্রাস হওয়ার,
আমি ভয় পাইনা ডানা ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে মৃত্যুর প্রহর গোনার।
কিন্তু আমার ভয় হয়,
যদি আমার পায়ের আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে
ভীত সণ্ত্রস্ত হয়ে জেগে উঠে কোন হুতুম-পেঁচা,
কিংবা ঘুম ভেঙ্গে যায় কোন সদ্যজাত প্রজাপতির,
কিংবা আমার আওয়াজ শুনে হঠাৎ করে উড়তে
গিয়ে কোন পোকা ধরা পরে মাকরশার মরনফাঁদে।
আমার ভয় হয়, তখন আমার ভয় হয়।
কারন তখন আমি বুঝতে পারি
আমার ডানা থাকলেও ডানা ভাঙ্গার জমাটবাধা কষ্ট এসে
ভর করে আমার কাঁধে।
মৃত্যুযণ্ত্রনার প্রতিটি মুহুর্তের শত কষ্ট বুকে চেপে
এমনি করেই আমার বিচরন, পোকাদের রাজ্যে।
বি.দ্রঃ এই কবিতার কিছু অংশ মল্লিকার সংযোজন করা
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০০৯
দ্বৈত নগ
নগ যুগল!
কী নিটোল অবয়বে গড়া তুমি।
ফুলের পাপড়ি, সাগরের ফেনা,
তার চেয়েও বেশি কোমল তোমার
গা। বৃক্ষহীন, তৃণহীন তুমি।
তুমি সবুজ নও;
তবুও সবুজের চাইতে বেশি কিছু।
কেবল তোমার দিকে চেয়েই
কাটিয়ে দেয়া যাবে এ জনম।
হে নগযুগল!
তুমি আমার কাছে এসোনা।
আমি পবিত্র থাকতে চাই।
কী নিটোল অবয়বে গড়া তুমি।
ফুলের পাপড়ি, সাগরের ফেনা,
তার চেয়েও বেশি কোমল তোমার
গা। বৃক্ষহীন, তৃণহীন তুমি।
তুমি সবুজ নও;
তবুও সবুজের চাইতে বেশি কিছু।
কেবল তোমার দিকে চেয়েই
কাটিয়ে দেয়া যাবে এ জনম।
হে নগযুগল!
তুমি আমার কাছে এসোনা।
আমি পবিত্র থাকতে চাই।
হরণ
আমার একটা স্বাধীনতা ছিল-
উড়ে যেতাম মুক্ত বিহঙ্গের মতো
দিগন্তের ওপারে;
তোমরা কেড়ে নিয়েছ।
আমার একটা মন ছিল-
রঙীন নকশীকাঁথার জাল বুনে
গা বিছিয়ে দিতাম তার উপর;
তোমরা ভেঙে দিয়েছ।
আমার দু'টো হাত ছিল-
তুলির আঁচড়ে নানা রঙের প্রজাপতি
শোভা পেত ক্যানভাসে;
তোমরা কেটে দিয়েছ।
আমার দু'টো পা ছিল-
চলতে চলতে হারিয়ে যেতাম
সবুজের মেলায়;
তোমরা বেঁধে দিয়েছ।
আমার ক'ফোঁটা অশ্রু ছিল-
যখন তখন জলের ধারা
বয়ে যেত কপোলে:
তোমরা শুকিয়ে ফেলেছ।
সবই তোমরা নিয়েছ কেড়ে,
যা ছিল আমার।
আজ এ রিক্ত-শ্রান্ত ক্ষণে
কিছুই চাইনা ফেরত-
আমি শুধু তোমাদের কাছে
কান্নার লাইসেন্স চাই।
দেবে কি তোমরা?
উড়ে যেতাম মুক্ত বিহঙ্গের মতো
দিগন্তের ওপারে;
তোমরা কেড়ে নিয়েছ।
আমার একটা মন ছিল-
রঙীন নকশীকাঁথার জাল বুনে
গা বিছিয়ে দিতাম তার উপর;
তোমরা ভেঙে দিয়েছ।
আমার দু'টো হাত ছিল-
তুলির আঁচড়ে নানা রঙের প্রজাপতি
শোভা পেত ক্যানভাসে;
তোমরা কেটে দিয়েছ।
আমার দু'টো পা ছিল-
চলতে চলতে হারিয়ে যেতাম
সবুজের মেলায়;
তোমরা বেঁধে দিয়েছ।
আমার ক'ফোঁটা অশ্রু ছিল-
যখন তখন জলের ধারা
বয়ে যেত কপোলে:
তোমরা শুকিয়ে ফেলেছ।
সবই তোমরা নিয়েছ কেড়ে,
যা ছিল আমার।
আজ এ রিক্ত-শ্রান্ত ক্ষণে
কিছুই চাইনা ফেরত-
আমি শুধু তোমাদের কাছে
কান্নার লাইসেন্স চাই।
দেবে কি তোমরা?
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)